ওয়াই-ফাই রাউটার কেনার আগে যা যা দেখবেন
৫টি বিষয় · ওয়ারেন্টি গাইড · সর্বশেষ রিভিউ 25 Sept 2026
রাউটার আপনার ইন্টারনেট প্ল্যানের speed বাড়াতে পারে না। সে শুধু যে speed আসছে সেটা ঘরের সব জায়গায় পৌঁছে দেয়। তাই কেনার আগে আপনার ISP প্ল্যান আর বাসার আকার জেনে নিন। কী দেখবেন, নিচে দেওয়া আছে।
দোকানে দাঁড়িয়ে টিক দিন
পুরো গাইড পড়ার সময় না থাকলে অন্তত এগুলো মিলিয়ে নিন।
Dual band: 2.4GHz আর 5GHz
কী দেখবেন
রাউটার দুটো band-এ সিগনাল দেয় কিনা।
কেন দেখবেন
5GHz-এ কাছাকাছি speed অনেক বেশি পাওয়া যায়, কিন্তু দেয়াল পেরোতে দুর্বল। 2.4GHz দেয়াল পেরিয়ে দূরে যায়, তবে speed কম। দুটোই থাকলে দুই সুবিধাই পাবেন।
কীভাবে চেক করবেন
- ১Spec-এ “dual band” বা “AC/AX” লেখা দেখুন।
- ২বাসার দূরের রুমে 2.4GHz-এ আর রাউটারের কাছে 5GHz-এ connect করুন।
Gigabit port
কী দেখবেন
রাউটারের LAN আর WAN port-এর speed ১০০ Mbps নাকি ১০০০ Mbps (gigabit)।
কেন দেখবেন
Port যদি ১০০ Mbps হয়, আপনার প্ল্যান যত বেশিই হোক, speed ১০০-র উপরে উঠবে না। “১২০০ Mbps Wi-Fi” লেখা রাউটারেও অনেক সময় port ১০০ Mbps থাকে।
কীভাবে চেক করবেন
- ১Spec-এ “Gigabit WAN/LAN” বা “10/100/1000” লেখা দেখুন।
- ২শুধু “10/100” লেখা থাকলে সেটা ১০০ Mbps-এর port।
Wi-Fi 6 নেবেন কিনা
কী দেখবেন
রাউটার Wi-Fi 5 (AC) নাকি Wi-Fi 6 (AX)।
কেন দেখবেন
Wi-Fi 6 একসাথে অনেক ডিভাইস চললে ভালো কাজ করে। তবে আপনার ফোন বা ল্যাপটপ Wi-Fi 6 সাপোর্ট না করলে speed-এর সুবিধা কম পাবেন।
কীভাবে চেক করবেন
- ১বাসায় কয়টা ডিভাইস একসাথে চলে গুনুন। অনেক হলে Wi-Fi 6 কাজে দেয়।
- ২আপনার ফোন বা ল্যাপটপের spec-এ Wi-Fi 6 (802.11ax) আছে কিনা দেখুন।
বড় বা বহুতল বাসা
কী দেখবেন
একটা রাউটার পুরো বাসায় সিগনাল দেবে কিনা।
কেন দেখবেন
মোটা দেয়াল আর একাধিক তলায় একটা রাউটারের সিগনাল দুর্বল হয়ে যায়। অনেক শক্তিশালী একটা রাউটারের চেয়ে দুই-তিনটা ইউনিটের mesh system ভালো কাজ করে।
কীভাবে চেক করবেন
- ১রাউটার বাসার মাঝামাঝি, একটু উঁচু জায়গায় রাখুন, ধাতব আলমারি থেকে দূরে।
- ২তারপরও কোনো রুমে সিগনাল না গেলে mesh বা access point ভাবুন।
সেটআপ আর নিরাপত্তা
কী দেখবেন
ISP-র সংযোগ সেটআপ, password, আর লোডশেডিং-এ চালু রাখা।
কেন দেখবেন
ISP-র সংযোগ ঠিকমতো সেটআপ না হলে ইন্টারনেট আসবে না। Default password রাখলে যে কেউ রাউটারের সেটিংসে ঢুকতে পারে।
কীভাবে চেক করবেন
- ১ISP-কে জিজ্ঞেস করুন আপনার সংযোগ কোন ধরনের (PPPoE, ONU), আর এই রাউটারে সেটআপ করা যায় কিনা।
- ২Admin password আর Wi-Fi password দুটোই বদলে দিন।
- ৩লোডশেডিং-এ চালু রাখতে adapter-এর ভোল্টেজ মিলিয়ে mini UPS নিন।
ওয়ারেন্টি কীভাবে বুঝবেন
রাউটারে সাধারণত distributor-এর ওয়ারেন্টি থাকে। ভোল্টেজ বা বজ্রপাতে adapter পুড়ে যাওয়া খুব সাধারণ, আর সেটা অনেক সময় ওয়ারেন্টিতে পড়ে না।
সাধারণত কভার করে
- চালু না হওয়া, সিগনাল না দেওয়া
- port-এর কারখানার ত্রুটি
সাধারণত কভার করে না
- বজ্রপাত বা ভোল্টেজে পোড়া
- adapter হারানো বা নষ্ট হওয়া (অনেক ব্র্যান্ডে)
- firmware নিজে বদলানোর পর সমস্যা
কার্ড ও মেমোতে যা থাকতেই হবে
- মডেল আর serial নম্বর
- কেনার তারিখ, দোকানের সিল
- ওয়ারেন্টি কত বছর আর কে দেবে
সমস্যা হলে কী করবেন
- রাউটার reset করে আবার সেটআপ করে দেখুন।
- না মিটলে মেমো আর বক্সসহ দোকানে যান।
ওয়ারেন্টির মেয়াদ আর শর্ত ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে আলাদা হয়। কেনার সময় দোকান বা ব্র্যান্ডের কাছ থেকে লিখিত নিন।
এগুলো দেখলে সাবধান হন
- “১২০০ Mbps” লেখা কিন্তু সব port ১০০ Mbps
- Firmware update আর পাওয়া যায় না এমন পুরনো মডেল
- ISP-র সাথে সামঞ্জস্য নিয়ে কিছু বলতে পারছে না
প্রায়ই যা জিজ্ঞেস করা হয়
রাউটার কোথায় রাখলে ভালো কাজ করে?
বাসার মাঝামাঝি একটু উঁচু জায়গায়, ধাতব আলমারি আর মাইক্রোওয়েভ থেকে দূরে। মেঝেতে বা আলমারির ভেতরে রাখবেন না।
চেক করা শেষ? এবার দাম মিলিয়ে নিন
একই মডেলের দাম শপভেদে অনেক আলাদা হয়। সব শপের দাম একসাথে দেখুন।
ওয়াই-ফাই রাউটার-এর দাম তুলনা করুন