ল্যাপটপ কেনার আগে যা যা দেখবেন
৭টি বিষয় · ওয়ারেন্টি গাইড · সর্বশেষ রিভিউ 25 Sept 2026
দোকানের বিজ্ঞাপনে ল্যাপটপের বর্ণনা সাধারণত এক লাইনের, যেমন “Core i5, 8GB, 512GB”। কিন্তু একই লাইনের দুটো ল্যাপটপের মধ্যে পারফরম্যান্সে বিশাল পার্থক্য হতে পারে। কোন জিনিস আসলে গুরুত্বপূর্ণ আর দোকানে কীভাবে যাচাই করবেন, নিচে দেওয়া আছে।
দোকানে দাঁড়িয়ে টিক দিন
পুরো গাইড পড়ার সময় না থাকলে অন্তত এগুলো মিলিয়ে নিন।
Processor-এর নাম কীভাবে পড়বেন
কী দেখবেন
শুধু “i5” বা “Ryzen 5” না, পুরো model নম্বর, যেমন i5-1235U বা Ryzen 5 7530U।
কেন দেখবেন
পুরনো generation-এর i7 অনেক সময় নতুন i5-এর চেয়ে ধীর। শেষের অক্ষরটাও গুরুত্বপূর্ণ: U মানে কম বিদ্যুতের পাতলা ল্যাপটপ, H বা HX মানে বেশি শক্তিশালী কিন্তু বেশি গরম হয় আর ব্যাটারি কম চলে।
কীভাবে চেক করবেন
- ১দোকানের tag-এ পুরো নাম না থাকলে ল্যাপটপে Settings → System → About খুলে দেখুন।
- ২নামটা ভেঙে পড়ুন: ব্র্যান্ড (Intel বা AMD), স্তর (i3/i5/i7 বা Ryzen 3/5/7), generation (প্রথম এক-দুই সংখ্যা), আর শেষের অক্ষর।
- ৩নতুন Intel ল্যাপটপে নাম “Core Ultra 5 125H”-এর মতো হতে পারে। তখনও শেষের অক্ষর দিয়ে ধরন বোঝা যায়।
- ৪দুটো ল্যাপটপ তুলনা করতে model নম্বর দিয়ে অনলাইনে benchmark খুঁজে দেখুন।
RAM: কত লাগবে, পরে বাড়ানো যাবে কিনা
কী দেখবেন
কত GB RAM আছে, আর খালি slot আছে নাকি RAM মাদারবোর্ডে ঝালাই করা (soldered)।
কেন দেখবেন
Soldered RAM পরে আর বাড়ানো যায় না। এমন ল্যাপটপে শুরুতেই যথেষ্ট RAM নেওয়া জরুরি।
কীভাবে চেক করবেন
- ১দোকানে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন: “RAM কি upgradeable? খালি slot আছে?”
- ২Spec sheet-এ “onboard” বা “soldered” লেখা থাকলে ওই RAM বাড়ানো যাবে না।
- ৩মোটামুটি: পড়াশোনা বা অফিসের কাজে ৮GB কোনোমতে চলে, ১৬GB হলে কয়েক বছর নিশ্চিন্তে চলবে।
স্টোরেজ: অবশ্যই SSD
কী দেখবেন
স্টোরেজ SSD (NVMe হলে আরও ভালো) নাকি পুরনো HDD।
কেন দেখবেন
ল্যাপটপ দ্রুত চালু হওয়া আর অ্যাপ দ্রুত খোলার সবচেয়ে বড় কারণ SSD। HDD-ওয়ালা নতুন ল্যাপটপ প্রথম দিন থেকেই ধীর মনে হবে।
কীভাবে চেক করবেন
- ১Spec-এ “SSD” বা “NVMe” লেখা আছে কিনা দেখুন।
- ২বাড়তি SSD লাগানোর জন্য খালি slot আছে কিনা জিজ্ঞেস করুন।
ডিসপ্লে
কী দেখবেন
Panel-এর ধরন (IPS না TN), brightness (nits), আর resolution।
কেন দেখবেন
কম দামের অনেক ল্যাপটপে TN panel বা কম brightness থাকে। এগুলোয় একটু পাশ থেকে দেখলে রং ফ্যাকাশে লাগে, আর দিনের আলোয় পড়তে কষ্ট হয়।
কীভাবে চেক করবেন
- ১Spec sheet-এ “IPS” আর nits-এর সংখ্যা দেখুন। মোটামুটি ৩০০ nits বা বেশি হলে ঘরের সাধারণ আলোয় আরামদায়ক।
- ২স্ক্রিন একটু পাশ থেকে দেখুন। রং বদলে গেলে সম্ভবত TN panel।
- ৩কালো স্ক্রিনে কোণায় আলো চুঁইয়ে পড়ছে (backlight bleed) কিনা, আর সাদা স্ক্রিনে dead pixel আছে কিনা দেখুন।
Windows genuine কিনা
কী দেখবেন
Windows আসল লাইসেন্সে activated নাকি crack বা trial ভার্সন।
কেন দেখবেন
“Windows দেওয়া আছে” বলে অনেক সময় crack দেওয়া হয়। এতে আপডেট বন্ধ থাকতে পারে, আর নিরাপত্তার ঝুঁকিও থাকে।
কীভাবে চেক করবেন
- ১Settings → System → Activation খুলুন।
- ২“Windows is activated with a digital license” বা এরকম কিছু লেখা আছে কিনা দেখুন।
- ৩“Not activated” বা watermark থাকলে দোকানকে জিজ্ঞেস করুন লাইসেন্স দেবে কিনা।
হাতে নিয়ে টেস্ট
কী দেখবেন
Keyboard, touchpad, webcam, mic, speaker, Wi-Fi, সব port আর charging।
কেন দেখবেন
বক্স-খোলা বা ফেরত আসা ল্যাপটপে একটা key বা port নষ্ট থাকা সাধারণ ব্যাপার।
কীভাবে চেক করবেন
- ১Notepad খুলে প্রতিটা key একবার চাপুন।
- ২Camera অ্যাপ খুলে webcam আর mic দেখুন, একটা ভিডিও চালিয়ে speaker শুনুন।
- ৩USB, USB-C, HDMI port-এ কিছু লাগিয়ে দেখুন, আর charger লাগিয়ে চার্জ হচ্ছে কিনা দেখুন।
- ৪বডির নিচের serial নম্বর বক্স আর মেমোর সাথে মেলান।
ব্যবহৃত ল্যাপটপ হলে: ব্যাটারি রিপোর্ট
কী দেখবেন
ব্যাটারি এখন নতুন অবস্থার তুলনায় কতটা চার্জ ধরে রাখতে পারে।
কেন দেখবেন
পুরনো ল্যাপটপের সবচেয়ে সাধারণ দুর্বলতা ব্যাটারি। ব্যাটারি বদলাতে খরচ আছে।
কীভাবে চেক করবেন
- ১Start মেনুতে “cmd” লিখে Command Prompt খুলুন।
- ২লিখুন: powercfg /batteryreport, তারপর Enter চাপুন।
- ৩যে ফাইলের ঠিকানা দেখাবে, সেটা খুলে “Design capacity” আর “Full charge capacity” তুলনা করুন। পার্থক্য যত বেশি, ব্যাটারি তত দুর্বল।
- ৪BIOS password বা কোনো company-র management lock আছে কিনা দেখুন।
ওয়ারেন্টি কীভাবে বুঝবেন
ল্যাপটপে সাধারণত official distributor-এর ওয়ারেন্টি থাকে। কিন্তু প্রায়ই ব্যাটারি আর adapter-এর ওয়ারেন্টি মূল ল্যাপটপের চেয়ে কম সময়ের হয়। কোন অংশের ওয়ারেন্টি কত দিন, আলাদা করে লিখিত নিন।
সাধারণত কভার করে
- মাদারবোর্ড, ডিসপ্লে, keyboard-এর মতো অংশের কারখানার ত্রুটি
- কিছু ব্র্যান্ডে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফ্রি সার্ভিস
সাধারণত কভার করে না
- পড়ে যাওয়া, চাপ লেগে ফাটা স্ক্রিন, ভাঙা hinge
- তরল পড়ে নষ্ট হওয়া
- Software, Windows বা ভাইরাসের সমস্যা
- নিজে বা বাইরের দোকানে খোলা হলে (warranty sticker ছেঁড়া থাকলে) ওয়ারেন্টি বাতিল হতে পারে
কার্ড ও মেমোতে যা থাকতেই হবে
- মডেল আর serial নম্বর
- কেনার তারিখ, দোকানের সিল
- ল্যাপটপ, ব্যাটারি আর adapter-এর ওয়ারেন্টি কত দিন, আলাদা করে লেখা
- Distributor-এর নাম আর service center-এর ঠিকানা
সমস্যা হলে কী করবেন
- ল্যাপটপের data backup নিন।
- দোকান বা distributor-এর service center-এ মেমো আর কার্ডসহ জমা দিন।
- Job slip-এ সমস্যার বিবরণ, সাথে কী কী জমা দিলেন (charger, ব্যাগ), আর ফেরতের তারিখ লিখিয়ে নিন।
ওয়ারেন্টির মেয়াদ আর শর্ত ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে আলাদা হয়। কেনার সময় দোকান বা ব্র্যান্ডের কাছ থেকে লিখিত নিন।
এগুলো দেখলে সাবধান হন
- Processor-এর পুরো model নম্বর বলতে পারছে না
- “Gaming laptop” বলছে কিন্তু আলাদা graphics card নেই
- Windows activation দেখাতে চায় না
- Serial নম্বরের স্টিকার ছেঁড়া বা ঘষা
প্রায়ই যা জিজ্ঞেস করা হয়
পড়াশোনার জন্য কেমন ল্যাপটপ যথেষ্ট?
নতুন generation-এর i3/Ryzen 3 বা i5/Ryzen 5, SSD, আর ৮–১৬GB RAM হলে পড়াশোনা, অফিসের কাজ আর অনলাইন ক্লাস স্বাচ্ছন্দ্যে চলে। ভিডিও এডিটিং বা গেমের জন্য আরও শক্তিশালী কিছু লাগবে।
ল্যাপটপ কি সবসময় চার্জে লাগিয়ে রাখা যায়?
আধুনিক ল্যাপটপে সাধারণত সমস্যা হয় না। অনেক ব্র্যান্ডের অ্যাপে ব্যাটারি ৮০% পর্যন্ত চার্জ সীমিত রাখার অপশন থাকে, যা ব্যাটারি বেশিদিন ভালো রাখে।
চেক করা শেষ? এবার দাম মিলিয়ে নিন
একই মডেলের দাম শপভেদে অনেক আলাদা হয়। সব শপের দাম একসাথে দেখুন।
ল্যাপটপ-এর দাম তুলনা করুন